বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের



স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিজিবি সদস্যদের সততা, দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান এবং মানবপাচার প্রতিরোধে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গেগুরুত্বারোপ করেন বাহিনীর শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর। তিনি আহ্বান জানান গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের এবং তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার, সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থা অর্জন, দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে মানবিক ভূমিকা পালন এবং সর্বক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

সোমবার বেলা ১১টায় পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতর পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দফতরে পৌঁছালে বিজিবির একটি সু-সজ্জিত চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করেন।

পরবর্তীতে পিলখানাস্থ শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবি সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেসিও, অন্যান্য পদবির সদস্য এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সারাদেশে বিজিবির বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) কর্মরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। মতবিনিময়কালে বিজিবি সদস্যদের দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দফতরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

অতঃপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানাস্থ বিজিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে মতবিনিময় করেন এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


Exit mobile version