NewsBit

গজারিয়াতে কনস্ট্রাকশন সাইটে সংঘবদ্ধ ডাকাতি, গ্রেপ্তার ১৯


মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক জব্দ এবং বিপুল পরিমাণ লুণ্ঠিত নির্মাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে অন্তত ২৩ থেকে ২৪ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।


রোববার (১৯ জুলাই) মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।


এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ১৯ জনের মধ্যে রয়েছেন। এরা হলেন মাইন উদ্দিন, ছোটন, রিয়াজুল ইসলাম, আবুল খায়ের, শাহ আলম, রনি শিকদার, মেহেদী হাসান, মনোরঞ্জন দাস, আল আমিন সানা, অলোকেশ মণ্ডল, সারাফত উদ্দিন সুমন, অলিউর রহমান, জামাল, মৃদুল আহম্মেদ তুষার, সজল হোসেন, আরিফ, মিরাজ, আলী ও রফিক।



পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই দিবাগত রাত ২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ জানতে পারে, উপজেলার বালুবাকান্দি এলাকায় অবস্থিত ‘দি জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করেছে। তারা সেখানে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে একটি কনটেইনার কক্ষে আটকে রাখে। পরে সাইটে থাকা বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী ট্রাকে করে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে লুণ্ঠিত মালামালের মূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হয়।


এ ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু করে গজারিয়া থানা পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দেওয়া সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে দুটি ট্রাককে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরে ট্রাকের মালিকানা, ভাড়ার তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথমে একটি ট্রাক শনাক্ত করা হয়। এরপর ট্রাকের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


এ ঘটনায় ১৪ জুলাই গজারিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। একই দিনে চারজনকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দ্বিতীয় ট্রাকও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয় এবং এর চালককে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ডাকাতির ঘটনাটি দুটি গ্রুপের সমন্বয়ে সংঘটিত হয়েছে। শাওন, সজল ও রিয়াজুলসহ কয়েকজন মূল পরিকল্পনা কারীদের হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সজল হোসেন ও রিয়াজুল ইসলাম ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে সংঘবদ্ধভাবে নির্মাণসামগ্রী লুণ্ঠনের পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় সহযোগী ও শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করে ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনার দিন রাতেই একটি দল ঢাকার তেজগাঁও থেকে গজারিয়ায় এসে অবস্থান নেয়। পরে অগ্রবর্তী দল কনস্ট্রাকশন সাইটে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে। এরপর ট্রাক প্রবেশ করিয়ে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।


উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ট্রাক, চারটি ব্যাটারি, ১০টি ফ্যান, দুটি মোটর, দুটি ডায়নামো, একটি ৩০ হর্স পাওয়ার মোটর, একটি চায়না ডিজেল ইঞ্জিন, একটি মিগ ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক রড কাটার মেশিন, পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন, একটি হাইড্রোলিক পাম্প, একটি এসি মেশিন, বিভিন্ন পাইপ এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ টন লোহার মালামাল।


মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ ডাকাতি চক্রটির পূর্ণ নেটওয়ার্ক উন্মোচনের চেষ্টা চলছে।


সান নিউজ/ জামান


Related Articles

Back to top button